দেশজুড়ে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্য বেড়েই চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ৬:২৮:৫৮ প্রিন্ট সংস্করণ

 

এস এন কায়সার জুয়েল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযান, নানা তৎপরতা সত্বেও কক্সবাজারের দুই উপজেলা উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ প্রবণতা বেড়েই চলছে। মাদক কারবারের পাশাপাশি খুন,গুম ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। প্রায় প্রতিদিনই অপহরণের ঘটনা ঘটছে কোন না কোন ক্যাম্পে। গত এক মাসে অন্তত ২ শতাধিক লোককে অপহরণের পর মোটা অংকের চাঁদা আদায় করা হয়েছে। শিশু, কিশোর,যুবক,বৃদ্ধ কেউ রেহায় পাচ্ছে না অপহরণ কারী চক্রের হাত থেকে। সম্প্রতি
গত ০৭-ফেব্রুয়ারি-২০২৩ বিকাল ০৪:৩০মিনিটে নয়াপাড়া রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের আই ব্লকের মোঃ শাহজাহান (১৪) নামক এক রোহিঙ্গা কিশোর কে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করেছে রোহিঙ্গা অপহরণকারী চক্র ছালেহ গ্রুপ । উক্ত শাহজাহান রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি সাইফুল আরকানীর ছোট ভাই।
শাহজাহানের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানা যায়,গত ০৭-ফেব্রুয়ারি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা মোচনী রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের আই ব্লকের সুলতান আহমদের পুত্র মোঃ শাহজাহান পার্শ্ববর্তি মাঠে ফুটবল খেলতে যায়। খেলার মাঠ থেকে সন্ধ্যার পরও বাসায় ফিরে আসেনি।
পুরো ক্যাম্পে তার সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি ক্যাম্পের কর্তব্যরত ১৬এপিবিএন পুলিশ অবহিত করা হয়। ১৬এপিবিএন পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বেশ কিছু জায়গায় শাহজাহান কে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে ও ব্যর্থ হয়।
একইদিন রাতে ক্যাম্পের চিহ্নিত অপরাধ চক্র ছালেহ গ্রুপের প্রধান একই ক্যাম্পের ডি ব্লকের মোঃ নাছিরের পুত্র ছালেহ অপহ্রত শাহজাহান এর পরিবার কে +8801881151457 মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা
মুক্তিপণ দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে তার লাশ মিলবে বলে হুমকি দেয়। শুরু হয় মুক্তিপণের টাকা নিয়ে দরকষাকষি। অপহরণকারীরা শেষমেশ ৬ লাখ টাকায় রাজি হয়। টাকা দিতে বলে বিকাশ পারসোনাল নম্বরে। পরে ধার কর্জ করে নিম্মে উল্লেখিত ২১ টি বিকাশ নম্বরে মোট-৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ পরিশোধ করে শাহজাহানের অসহায় পরিবার।
৩দিন পর তাকে ফেরত পায় তার পরিবার। তার পরিবার জানায়, রোহিঙ্গা সাইফুল আরাকানী কেই মূলত তারা হত্যার টার্গেট করেছিল। তাকে না পেয়ে ছোট ভাই শাহজাহান কে তুলে নিয়ে যায় স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী ছালেহ গ্রুপ। পুতিয়া গ্রুপ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর এখন ছালেহ গ্রুপ সক্রিয় হয়। সাইফুল আরকানী জানায়,আমি এবং আমার পরিবার এই ক্যাম্পে মোটেও নিরাপদ নয়। কুতুপালং ৪ নং ট্রানজিত ক্যাম্পে গিয়ে হামলার সম্মুখীন হয়েছি। আমি প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের টার্গেটে পরিনত হয়েছি। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর লেলিয়ে দেয়া গুপ্তচর রা ও আমি ও আমার পরিবার কে হত্যার চক্রান্ত করছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানিয় রোহিঙ্গারা জানায়, নয়াপাড়া রেজিষ্টার্ড ক্যাম্পের একটি চিহ্নিত বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ বাণিজ্যে জড়িত। একমাসের ব্যবধানে প্রায় ১০/১৫ টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি উক্ত ক্যাম্পের এইচ ব্লকের ৭ বছরের শিশু ওসমান গনী,ডি ব্লকের ইয়াছিন(২২) ৫ লাখ,ও অপরজন ২০ লাখ মুক্তিপণ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যায়।
এ ব্যাপারে ১৬ এপিবিএন পুলিশের এসপি জানান,বিষয়টি খুজ নিয়ে জানাবো। তবে অপহরণের বিরুদ্ধে আমাদের টিম নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে।
ইতিমধ্যে অপহরণকারী চক্রের একটি তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ।
স্থানীয় একটি চক্রও এই অপহরণকারীদের সহায়তা করছে বলে পুলিশের ওই প্রতিবেদন বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত এক মাসে ২শ’র বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তারা অপহরণের পর নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে ১৩৫ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে ক্যাম্পে।
সম্প্রতি টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-ব্লকের বাসিন্দা আমির হাকিমের ছেলে মোহাম্মদ ফরোয়াজ, তার ভাই মোহাম্মদ জোহার, মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ নূর, আবুল হোসেনের ছেলে নুরুল হক, ইউছুফ আলীর ছেলে জাহিদ হোসেন ও আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ ইদ্রিসকে অপহরণ করা হয়। তারা ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে রক্ষা পায়।
১৯ ডিসেম্বর অপরহরণকারীরা টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ উল্লাহ, মোস্তফা কামাল, করিম উল্লাহ, মো. রিদুয়ান, সলিম উল্লাহ, নুরুল হক, নুরুল আবছার ও নুর মোহাম্মদকে অপহরণ করা হয়। ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পুরো টাকা দিয়েই তারা মুক্ত হন।
১০ নভেম্বর ২০২২
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে ১১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে ১৬ এপিবিএন। এ সময় অপহরণকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
টানা দুদিনের অভিযানে অপহৃতদের উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।
অপহরণকারী চক্রের চারসদস্যকে আটকের পর ভোরে টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়া এলাকা থেকে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়েছে। যাদের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পৃথকভাবে অপহরণ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন রোহিঙ্গা ও একজন স্থানীয় বাংলাদেশি রয়েছেন। তারা হলেন: উখিয়ার বালুখালীর জামতলীর ১৫ নম্বর ক্যাম্পের মৃত লোকমান হাকিমের ছেলে আব্দুর রশিদ (৩৬), টেকনাফ সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার দিল মোহাম্মদের ছেলে রবিউল আলম (২০), উখিয়ার কুতুপালং বালুমাঠ ক্যাম্পের মো. রশিদের ছেলে আইয়ুব (২৬) ও উখিয়ার শফিউল্লাহ কাটা ক্যাম্পের মৃত আবদুল শামার ছেলে আমির হোসেন (৩৪)।
উদ্ধার হওয়া অপহৃতরা হলেন: টেকনাফের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের বদি আলমের ছেলে মো. ফারুক (১৪), সৈয়দ আলমের ছেলে মো. আলম (১৪), কুতুপালং ক্যাম্পের সুলতান আহমেদের ছেলে একরামুল হাসান (১৭), হোসেন আহমেদের ছেলে তৈমর (১৮), বালুখালী ক্যাম্পের মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. রফিক (২৩), মো. নুরের ছেলে মো. জালাল (১৮), মৃত আনোয়ারের ছেলে মোজাম্মেল (২০), হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. সাদেক (১২), গুরা মিয়ার ছেলে মো. জুবায়ের (১৫), নুর মোহাম্মদের ছেলে নুর কামাল (২৪) ও আবদুল হকের মেয়ে ফাতেমা (১৪)
১৬ এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক জানান,একটি চক্র কৌশলে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অপহরণের এমন তথ্য নিয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে মিডিয়ায় দেয়া এক স্বাক্ষাতকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, রোহিঙ্গাদের একটি চক্র অপহরণ করাসহ অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে আমরা তথ্য পাচ্ছি। তাদের কঠোরভাবে দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:

আরও খবর

Sponsered content

টেকনাফ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তারা, যত্রতত্র স্থানে তরকারি বিক্রি, মাছ বিক্রি,ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গাদের বসবাস,মাদকমুক্ত করনে সাঁড়াশী অভিযান শুরু করা হবে

আমতলী সদর ইউনিয়নের ছাদের আলী হাং বাড়ির জামে মসজিদে ঈদগা মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত খুশিতে উৎফুল্ল মুসল্লিরা*

বি মানিক বৈরাগীর স্টাটার্স মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাইনা, এবার চাই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

উন্নয়নের ধারা’কে অব্যাহত রাখতে আ”লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয়ের বিকল্প নেই : সালাম মূর্শেদী,

মুরাদনগরে এমপি’র নিজস্ব অর্থায়নে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আতঙ্কের অন্যতম নাম এখন লোহাগড়ার জনপথ, আস্থা পাচ্ছেন না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর