দেশজুড়ে

চিরকুমার হেমন্ত গুম থেকে খুন! ও কিছু কথা।

ডেস্ক রিপোর্ট

৮ এপ্রিল ২০২৩ , ১০:৩৬:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

 

চিরকুমার হেমন্ত কুমার হালদার (৭০)অবশেষে গুম থেকে খুন! এটা ভাবতেই শরীরের পশম শিউরে উঠে! ৩ এপ্রিল বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বেড়িয়ে যান ইরিরব্লকে। আর ফিরে আসেননি বাড়ি।তাঁর সন্ধান না পেয়ে চারিদিকে আত্মীয়স্বজনকে খোজখবর লাগান হয়। কোথাও না পেয়ে সবাই চিন্তিত।২ দিন পর অর্থাৎ ৫ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় চাষি সুভাষ হাওলাদার তার তরমুজ খেতে তরমুজ কাটতে গিয়ে দেখতে পান ধানখেতে মাছি উড়ছে এবং পঁচা দুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।কাছে গিয়ে লতাপাতা দিয়ে ঢাকা মৃতদেহের পা দেখে চিৎকার করে লোক জড়ো করে।এবং পুলিশকে খবর দেয়। উজিরপুর মডেল থানার একদল পুলিশ এসে লাশ দেখেন।এবং লতাপাতা সরিয়ে লাশ চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।গ্রামবাসীসহ তাঁর ছোটোভাই প্রিয়লাল হালদার লাশ দেখে শনাক্ত করেন যে লাশ তাঁর ভাই হেমন্ত কুমার হালদারেরই।
কে বা কারা ধরে নিয়ে নৃশংস খুন করে ইরিব্লকে ধানখেতে ফেলে যায়!

কতো নৃশংস!কতো বিভৎস! কতো জঘন্যতম হত্যা! ভাবাই যায় না।মানুষ কতো পশু হতে পারে যার প্রমাণ এ হত্যাকান্ড। জবাই করে কাটার মতো।শরীরে পচন ধরেছে। এমন কী তাঁর মুখমন্ডল দেখে বোঝার কোনো উপায় নাই। পুরো উপজেলা যার জন্য কাঁদে।এলাকাবাসী শোকে হতবিহ্বল। এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

জন্মের পর অব্দি এই লোকটিকে চিনিজানি।এবং পরম আত্মীয়ও বটে। দু চার তল্লাটে এ মানের লোক হয়তো কমই হবে। হিন্দ নয়,মুসলিম নয়,বৌদ্ধ নয়,খ্রিস্টান নয়। তাঁকে চিনে না এরকম লোক খুব কমই আছে। তিনি কারো উপকারে আসেন নাই তাও হয়তো কেউ বলতে পারবেন না।
কেউবা তাঁকে,হেমন্ত,হেমন্তদা,বড়দা,কিংবা মামা বলেই ডাকতেন।সবার পরিচিত মুখ হেমন্ত। কাউকে দেখলে একগাল হাসি দিয়ে বলতেন মনু কেমন আছো?এই মধুর ডাক আর শোনা হবে না গ্রামের কোনো অনুজদের।

ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি আশেপাশে যতো রাস্তাঘাট ভাঙা,কিংবা সাঁকো ছিলো না যখন তখন নিজেই উদ্যোগি হয়ে কাঁধে মাটি নিয়ে এলাকার লোকজনসহ রাস্তা বাঁধতেন, সাঁকো দিতেন।আমিও রীতিমত তাঁর সাগরেদ ছিলাম কমবেশি। গ্রাম থেকে চালডাল তুলে লোকজন নিয়ে খিচুড়ি রেধে খাওয়াতেন কাজের দিন।সেসব স্মৃতি ভুলি কীভাবে?
এমনকি এলাকায় পল্লিবিদ্যুতের ছোঁয়া তাও তাঁর প্রাচেষ্টায়ই হয়েছে।

তাঁর জীবনে কোনো চাওয়া পাওয়া ছিলো না।সাদামাটা জীবনযাপন,নিরহঙ্কারী একজন নিষ্পাপ মানুষ ছিলেন।
স্বপ্ন বলতে গ্রাম তথা এলাকার মানুষ ভালো থাকুক। রাতবিরাতে তাঁকে ডেকে কেউ পায়নি এরকম নজির নেই।

চিরকুমার হেমন্ত কৃষিতেই মনোযোগী ছিলেন বেশি।এলাকার মানুষ ধান চাষ করুক,ভালো ফলন হোক,এটাই ছিলো তাঁর মনস্কামনা। আর সেই কৃষিজমিতেই তাঁকে খুন করা হলো!

স্থানীয়সূত্রে,ও বিভিন্ন পত্রিকারসহ গণমাধ্যম সংবাদের ভিত্তিতে শেনা যায় এই ইরিরব্লক নিয়েই নাকি পার্শবর্তী এলাকার জাকির নামে এক লোকের সাথে দ্বন্দ্ব চলছিলো। এবং বলাবলি চলছে জাকিরই হয়তো তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁর ছোটোভাই বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাত মামলা দায়ের করেছেন। এবং ব্যাবের একটিদল সন্দেহজনকভাবে জাকিরসহ তার আরও দুইভাইকে এরেস্ট করে থানায় দিয়েছে। থানা থেকে ০৬ এপ্রিল কোর্টে প্রেরণ করা হলে বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরন করেন।

উল্লখ্য,৬ নং বড়াকোঠা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের এ অংশটুকু হিন্দু অধ্যোষিত এলাকা। স্বাধীনের পর কিংবা আগেও এ এলাকায় এ ধরণের চাঞ্চল্যকর,জঘন্ন,নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটেনি।তবে কেনো এ হত্যাকান্ড? কেনো? কেনো? এলাকবাসীর একটাই দাবী উপযুক্ত তদন্ত করে দোষীদের যেনো কঠিন শাস্তি হয়। এবং ফাঁসি হয়।

হেমন্তদা,জীবনের শতো ব্যস্তার মাঝেও কমবেশি ওয়ার্কার্স পার্টির মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন।ব্যক্তিজীবনে ৩ ভাই ৩ বোনের মধ্যে তিনিই বড়ো ছিলেন। মেঝোভাই হিরোলাল হালদার বছোর তিনেক আগে গতো হয়েছেন। মাতা মনিকা রানি শতোর্ধ বয়সী। সন্তান হারানো ব্যথায় বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে।

লেখক
নিহার বিন্দু বিশ্বাস
কবি ও শিক্ষক
বরিশাল

শেয়ার করুন: