দেশজুড়ে

পশু আমদানি কারক ও বেকার শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে টেকনাফ শাহ পরীর দ্বীপের করিডোর খুলে দেওয়ার আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট

১ এপ্রিল ২০২৩ , ৬:১২:৪৫ প্রিন্ট সংস্করণ

 

 

এস এন কায়সার জুয়েল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপের মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করিডোর। যে কারণে পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে তার সুফল মিলেনি মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উল্টো চোরাই পথে আমদানি হওয়ায় আরো বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে সরকারও হারিয়েছে ৯কোটি টাকার রাজস্ব। তাই শিগগিরই শাহ পরীর দ্বীপ পশুর করিডোর খুলে দেওয়া হোক।করিডোরে পশু আমদানি বন্ধ থাকাতে শত শত ব‍্যবসায়ী বেকার অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন এবং একাজে কর্মরত হাজারো শ্রমিক কাজের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন,পাশাঁপাশিঁ এ কাজের শত শত যানবাহনও সংশ্লিষ্টরা অলস সময় পার করছেন, এমনটায় জানান কয়েকজন ব‍্যবসায়ী ও শ্রমিক।
দেশীয় গবাদি পশু পালনকারী খামারিদের কথা ভেবে সরকার গরু আমদানি নিষিদ্ধ করেছিলো। কিন্তু বৈধপথে আমদানি বন্ধ থাকলেও চোরাই পথে আরো বেশি পরিমাণ চোরাই পশু দেশে ঢুকেছে। এতে সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের সুফল মিলেনি। উল্টো সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানী কারক সমিতির অর্থ সম্পাদক পশু ব্যবসায়ী মৌলভী আলমগীর বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের পশু আমদানি কারকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে শাহপরীর দ্বীপের করিডোর খুলে দিলে ভালো হয়।দীর্ঘ দিন যাবত করিডোর বন্ধ থাকার ফলে হাজার হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। জীবিকা নির্বাহ করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।আমরা মিয়ানমারে অনেক ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা দাদন দিয়েছি সে টাকা গুলো ফেরতও পাচ্ছি না করিডোর বন্ধ থাকার কারণে। আমরা করিডোর খুলে দেয়ার জন্য এমপি, মন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।সীমান্ত পথে চোরাই গরু আসায় রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানাচ্ছি।

করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধের সুফল না মিলায় এবার কোরবানের আগেই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে পশু)) আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আশা করছেন পশু আমদানিকারকরা। ইতিমধ্যের প্রশাসনের সাথে এই বিষয়ে কথাও বলেছেন তারা। করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি করণে অনেকটা ইতিবাচক সাড়াও মিলেছে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

করিডোরে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক বলেন,আমরা অনেক দিন যাবত বেকার হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে রয়েছি। আমরাও শাহ পরীর দ্বীপ করিডোর খুলে দেয়ার জন্য সরকারকে আহবান জানাচ্ছি। অবৈধ পথে বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পশু আসায় সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এদিকে সকল করিডোর শ্রমিকদের মানবেতর জীবন যাপন,পরিবারে গরুর গোস্ত রান্না এখন আকাশ কুসুম কল্পনা।

জানা গেছে, ২০২১সালের কোরবানের আগে দেশীয় খামারিদের কথা বিবেচনা করে হঠাৎ মিয়ানমার থেকে গরুসহ অন্যান্য গবাদি পশু আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। করিডোর বন্ধ হওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া, রামু, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও আলিকদমসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে অবৈধভাবে গরু-মহিষ আমদানিতে ঝুঁকে পড়ে চোরাকারবারিরা। সেই থেকে এসব চোরাই পথ দিয়ে দেঁদারসে অবৈধ পশু প্রবেশ করছে দেশে। এতে এক দিকে পথে বসে গেছে সরকারের তালিকাভুক্ত পশু আমদানিকারকরা।অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে সরকার। মাঝখানে অঢেল অবৈধ টাকা কামিয়েছে এক শ্রেণির অসাধু লোকজন।

শাহ পরীর দ্বীপ করিডোর পশু আমদানিকারক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ জুবায়ের বলেন , দেশীয় খামারিদের কথা চিন্তা করে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ রাখার কোনো সুফল মিলেনি। বরং আরো ক্ষতি হয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে করিডোর খুলে দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি। প্রশাসন আমাদের আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং সে বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

শাহ পরীর দ্বীপ করিডোর পশু আমদানিকারকরা বলেন পশু আমদানি বন্ধ থাকায় সরকারি তালিকাভুক্ত পশু আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার হারিয়েছে শত কোটি টাকার রাজস্ব। কিন্তু এমন ক্ষতি আর করা উচিত হবে না। আমাদের আবেদন গ্রহণ করে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমারের পশু আমদানি চালু করা হবে বলে আমরা আশাবাদী। বৈধভাবে পশু আমদানি হলে সাথে সাথে চোরাই পথে পশু আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ পশুর করিডোর খুলে দেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্যবসায়ীরা ও টেকনাফবাসী আকুল আবেদন জানিয়েছেন এবং
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সদয় দৃষ্টিআকর্ষন করেন ভোক্তভূগিরা।

শেয়ার করুন:

আরও খবর

Sponsered content