দেশজুড়ে

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ইঞ্জেকশন নেওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে।

ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ মার্চ ২০২৩ , ৪:৪৬:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ

মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (স্ট্যাফ রিপোর্টার)

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে ইঞ্জেকশন নেওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। কেননা বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইঞ্জেকশনের ভূমিকা অপরিসীম, বিশেষ করে কিছু কিছু রোগের ক্ষেত্রে নিয়মিত ইঞ্জেকশন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। সুতরাং রোজাবস্থায় ইঞ্জেকশন নেওয়া, না নেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। কিছু সংখ্যক নামধারী মাওলানা ইঞ্জেকশনের কার্যকারিতা সম্পর্কে অজ্ঞতা হেতু বিভ্রান্তিমূলক ফতওয়া দিয়েছে যে, রোজাবস্থায় ইঞ্জেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হয়না। অথচ ইসলামী শরীয়তের উসুল মোতাবেক যা সম্পূর্ণ ভূল। অর্থাৎ রোজাবস্থায় ইঞ্জেকশন নিলে অবশ্যই রোজা ভঙ্গ হবে।

হাদীস শরীফ মোতাবেক শরীয়তের সাধারণ উসুল হলো “শরীরের ভিতর থেকে কোন কিছু বের হলে ওযূ ভঙ্গ হয় এবং বাইর থেকে কোন কিছু শরীরের ভিতরে প্রবেশ করলে রোজা ভঙ্গ হয়।” রোজার ব্যাপারে ইমাম আযম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি–এর যে উসুল, অর্থাৎ “বাইরে থেকে রোজাবস্থায় যে কোন প্রকারে বা পদ্ধতিতে শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে, যদি তা পাকস্থলী অথবা মগজে প্রবেশ করে, তবে অবশ্যই রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে।” এই উসুলের উপরেই ফতওয়া এবং অন্যান্য ইমাম-মুজতাহিদ্গণও এ ব্যাপারে একমত যে, যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ওষুধ মগজ অথবা পাকস্থলীতে পৌঁছায়, তবে অবশ্যই রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, অর্থাৎ ওষুধ ইত্যাদি মগজ পর্যন্ত পৌঁছানো শর্ত।

যে কোন প্রকারের বা পদ্ধতিতেই ইঞ্জেকশন নেওয়া হোক না কেন, ইঞ্জেকশনহয়েছের ওষুধ কিছু সময়ের মধ্যে রক্তস্রোতে মিশে যায় ও সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্তের মাধ্যমে তা কয়েক মিনিটের মধ্যে মগজে পৌঁছে যায়। কেননা রক্ত এমন একটি মাধ্যম, যার সাথে সরাসরি শরীরের প্রত্যেকটি কোষ (Cell) ও কলা (Tissue)-এর সংযোগ রয়েছে।
ইঞ্জেকশনের আহ্‌কামঃ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
“আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতদিন তোমরা এ দু’টিকে আকড়ে ধরে রাখবে, (অর্থাৎ মেনে চলবে) ততদিন পর্যন্ত তোমরা পথভ্রষ্ট বা গোমরাহ্ হবে না। একটি হল আল্লাহ পাক-এর কিতাব, অপরটি হল আমার সুন্নাহ।” (মুসলিম শরীফ)

মগজ বা পেটে প্রবেশ করুক আর না করুক, এটার উপরই ফতওয়া। যহয়েছেমন কিতাবে উল্লেখ করা হয়-

“যদি কানের ভিতর তেলের ফোটা ফেলা হয়, তবে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, এতে কাফ্‌ফারা ওয়াজিব হবে না। অনূরূপ হিদায়াতে উল্লেখ আছে। আর যদি তেল অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রবেশ করে, তবেও তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। এটা মুহীতে সারাখসীতে আছে। আর যদি কানহয়েছের তেলের ফোটা ফেলে, তবে তার রোজা ভঙ্গ হবে না। এটা হিদায়াতে আছে এবং এটাই সহীহ মত।” (আলমগীরী ১ম জিলদ্‌ পৃষ্ঠা-২০৪)

শুধু সুগন্ধি স্প্রে (Perfume Spray) শরীরের ত্বকের কোন অংশে দিলে যদি তার প্রবেশের কোন যোগ্যতা না থাকে, তবে রোজা ভঙ্গ হবে না। কেননা অনেক স্প্রের ক্ষেত্রেই উদ্বায়ী পদার্থ (Volatile Substance) থাকাতে সেটা শরীরের ত্বকে প্রবেশের পূর্বেই উড়ে যায়।
মূলকথা হলো- রক্তে যে সকল ওষুধের শোষণ ঘটে, ঐ সকল ওষুধ ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, কারণ রক্তে ওষুধের শোষণ ঘটলে তা অবশ্যই মগজে পৌঁছে যায়।

অসুস্থতার কারণে রোজা না রাখার হুকুমঃ একটি বিষয় খুবই লক্ষনীয়, তাহলো- কারো যদি রোজাবস্থায় দিনের বেলায় ইঞ্জেকশন নেওয়ার খুব বেশী প্রয়োজন পড়ে, তবে তার জন্য রোজা না রাখার হুকুম তো শরীয়তে রয়েই গেছে। যেমন আল্লাহ পাক বলেন-
“আর যদি কেউ অসুস্থ বা মুসাফির হয়, তবে অন্য সময় রোজাগুলো আদায় করবে।”

এখন কেউ প্রশ্ন করতে পারে যে, অসুস্থতার কারণে, মুসাফির সফরে কারণে অথবা কারো রোজাবস্থায় ইঞ্জেকশন নেওয়ার প্রয়োজন হলো, অনূরূপ শরয়ী কোন ওজরের কারণে যদি কেউ রমজান মাসের রোজা না রাখে এবং অন্য সময় রোজাগুলো আদায় করে নেয়, তবে কি সে রমজান মাসের ন্যায় ফযীলত লাভ করতে পারবে?

তার জবাবে বলতে হয়- হ্যাঁ, কেউ যদি অসুস্থতার কারণে, সফর অথবা শরয়ী যেকোন ওজরের কারণে রমজান মাসের রোজা রাখতে না পারে এবং অন্য সময় রোজাগুলো আদায় করে নেয়, তবে সে রমজান মাসের ন্যায় সকল ফাযায়িল-ফযীলত হাছিল করতে পারবে। কারণ শরীয়তের কোথাও উল্লেখ নেই যে, এরূপ ব্যক্তি রমজানের ফাযায়িল-ফযীলত হাছিল করতে পারবে না। বরং হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
“হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ওজর অথবা রোগ ব্যতীত রমজান মাসের একটি রোজা ভঙ্গ করবে, সে যদি তার পরিবর্তে সারা বছরও রোজা রাখে। তবেও ওটার সমকক্ষ হবে না।” (আহ্‌মদ, তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনে মাযাহ্‌)

প্রসঙ্গে আরো বলা যেতে পারে যে, যেমন- মেয়েদের অসুস্থতা (হায়েজ-নেফাস)-এর সময় নামাজ পড়া ও রোজা রাখা নিষিদ্ধ। কিন্তু সুস্থ হওয়ার পর রোজা কাজ্বা করতে হয় কিন্তু নামাজ কাজ্বা করতে হয় না। এর কারণ কি?

এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
“হযরত মুয়াজাহ্‌ আদভিয়া তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত আয়িশা সিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহাকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, হায়েজগ্রস্থা স্ত্রীলোক রোজা কাজ্বা করে কিন্তু নামাজ কাজ্বা করে না, এর কারণ কি? তখন হযরত আয়িশা সিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন, যখন আমরা এ অবস্থায় পৌঁছাতাম, তখন আমাদেরকে রোজা কাজ্বা করার আদেশ দেওয়া হতো কিন্তু নামাজ কাজ্বা করার আদেশ দেওয়া হতো না।” (মুসলিম শরীফ)

মোটকথা হলো- উত্তমভাবে গবেষণা ও তাহক্বীক্ব করার পর এটাই প্রমাণিত হয় যে, ইঞ্জেকশন ইত্যাদি মগজে পৌঁছে থাকে, আর শরীয়তের উসুল হলো- ওষুধ ইত্যাদি মগজ বা পেটে পৌঁছালে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। ইমামদের মত হলো- ওষুধ ইত্যাদি মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা শর্ত নয় বরং যে স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন, যদি তা মগজ বা পেটের যে কোন একটির ভিতর প্রবেশ করার ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকে, তবে তার রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। সুতরাং ইঞ্জেকশন সম্পর্কে সঠিক রায় হলো- “রোজাবস্থায় ইঞ্জেকশন নিলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ ইঞ্জেকশন দ্বারা ব্যবহৃত ওষুধ নিশ্চিতভাবে মগজে পৌঁছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যসূত্রঃ
(১) The theory and practice of industrial ) The theory and practice of Industrial Pharmacy. (Chapter: Biopharmaceuties & Semisolids)
By Leon Lachman, A. Lieberman Herbert and L. Kanig Joseph
(২) Guyton’s medical Physiology
(৩) Remington’s Pharmaceutical Sciences
by Joseph P. Remington
(৪) Goodman & Gilman’s the Pharmacological Basis of Therapeutics
by Joel Griffith Hardman, Lee E. Limbird, Alfred G. Gilman
(৫) Cummingham’s manuals of practical anatomy
By Cunningham, D. J. (Daniel John), ; Robinson, Arthur,
(৬) Martindale’s Extra Pharmacopoeia
Ed J E F Reynolds Royal Pharmaceutical Societ

শেয়ার করুন:

আরও খবর

কুমিল্লায় তদার‌কি অ‌ভিযা‌নে দুই প্রতিষ্ঠান‌কে ৩০ হাজার টাকা জ‌রিমানা

ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন,ইনামুল তালুকদার (রুবেল)

ঈদগাঁও থানার বিতর্কিত ওসির নির্যাতনও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ সমাবেশ

জান্নাতে বিশেষ বৃক্ষের ছায়ায় থাকবেন যারা! দুধরচকী।

মির্জাগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার  মোঃ শাহীন হাওলাদার মির্জাগঞ্জ  পটুয়াখালী  প্রতিনিধি।  মির্জাগঞ্জের ৫নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নভুক্ত দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ঐ এলাকার ফারুক মৃধা আজ দুপুরের পরে তার ধান ক্ষেতের মধ‍্যে ধান এলোমেলো দেখে রাগারাগি করতে থাকেন এবং পরে তার প্রতিবেশি তথা বোন জামাই আজীজ আকনের কাছে গিয়ে তার ক্ষেত নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানান এবং তাকে ক্ষেতের অবস্থা দেখান। ক্ষেতের মধ‍্যে চলার পথের মতো দেখতে পান।চলার পথের মতো দেখে আস্তে আস্তে সামনে অগ্রসর হন।শেষ মাথায় গিয়ে এক জায়গা মাটি খুড়ে কিছু চাপা দেয়ার মতো লক্ষ করেন।অতপর তারা স্থানীয় সাগর চৌকিদারকে ডাকেন।সাগর চৌকিদার ঘটনাস্থলে এসে দেখে সন্দেহজনক মনে হলে মির্জাগঞ্জ থানায় খবর দেন।পুলিশ এসে মাটি খুড়ে দেখতে পান একজন অজ্ঞাত নারীর লাশ। পুলিশ CID টিমকে জানালে তারা এসে পরবর্তী ব‍্যবস্থা গ্রহন করবে। বতর্মানে স্থানটা পুলিশ পাহারায় আছে।

মির্জাগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার মোঃ শাহীন হাওলাদার মির্জাগঞ্জ পটুয়াখালী প্রতিনিধি। মির্জাগঞ্জের ৫নং কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নভুক্ত দক্ষিণ কলাগাছিয়া গ্রামে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, ঐ এলাকার ফারুক মৃধা আজ দুপুরের পরে তার ধান ক্ষেতের মধ‍্যে ধান এলোমেলো দেখে রাগারাগি করতে থাকেন এবং পরে তার প্রতিবেশি তথা বোন জামাই আজীজ আকনের কাছে গিয়ে তার ক্ষেত নষ্ট হওয়ার বিষয়ে জানান এবং তাকে ক্ষেতের অবস্থা দেখান। ক্ষেতের মধ‍্যে চলার পথের মতো দেখতে পান।চলার পথের মতো দেখে আস্তে আস্তে সামনে অগ্রসর হন।শেষ মাথায় গিয়ে এক জায়গা মাটি খুড়ে কিছু চাপা দেয়ার মতো লক্ষ করেন।অতপর তারা স্থানীয় সাগর চৌকিদারকে ডাকেন।সাগর চৌকিদার ঘটনাস্থলে এসে দেখে সন্দেহজনক মনে হলে মির্জাগঞ্জ থানায় খবর দেন।পুলিশ এসে মাটি খুড়ে দেখতে পান একজন অজ্ঞাত নারীর লাশ। পুলিশ CID টিমকে জানালে তারা এসে পরবর্তী ব‍্যবস্থা গ্রহন করবে। বতর্মানে স্থানটা পুলিশ পাহারায় আছে।

সোনারগাঁও থানা প্রেসক্লাবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে “সোকসাস”

Sponsered content